
বিজয় চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি
মা-বাবার পর একজন শিক্ষার্থীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকেন শিক্ষক। একজন প্রকৃত শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তিনি একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম কারিগর। আমার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পেছনেও রয়েছেন এমনই দুই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক—শ্রদ্ধেয় গণিত শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন স্যার এবং শ্রদ্ধেয় ইংরেজি শিক্ষক মো. শাকিল স্যার।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তাঁদের আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও ব্যতিক্রমধর্মী পাঠদান আমাকে মুগ্ধ করেছে। গণিতের জটিল বিষয়গুলো হেলাল স্যার অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করতেন, ফলে কঠিন বিষয়ও হয়ে উঠত আনন্দের। অন্যদিকে শাকিল স্যারের ইংরেজি ক্লাস ছিল আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার এক অনন্য মাধ্যম। ভাষা শেখার পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছেন শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং নিজেকে সবসময় উন্নত করার মানসিকতা।
তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা, নিরলস পরিশ্রম ও অকৃত্রিম স্নেহের ফলেই আমি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁদের পরামর্শ আমাকে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। আজও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁদের শেখানো মূল্যবোধ আমার পথচলার প্রেরণা হয়ে রয়েছে।
আমার বিশ্বাস, একজন শিক্ষকের প্রকৃত সার্থকতা তাঁর শিক্ষার্থীর সাফল্যের মধ্যেই নিহিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমার এই ক্ষুদ্র অর্জনের প্রতিটি অধ্যায়ে আমার দুই প্রিয় শিক্ষকের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা শুধু একজন ভালো শিক্ষার্থী তৈরি করেননি; বরং একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও মানবিক মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।
আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমার দুই প্রিয় শিক্ষককে স্মরণ করছি। তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মহান আল্লাহ তাঁদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সম্মানময় জীবন দান করুন। ভবিষ্যতেও তাঁরা যেন তাঁদের জ্ঞান, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন আলোকিত করে যেতে পারেন—এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।
একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি একটি প্রজন্ম গড়ার নীরব স্থপতি।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Soft Host
Leave a Reply